জিয়া ভোটের রাজনীতি ধ্বংস করেছেন: প্রধানমন্ত্রী - আজকের বাংলাদেশ

জিয়া ভোটের রাজনীতি ধ্বংস করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছেন। ১৯ দফা ও জাগো দল থেকে তিন-চার ধাপ পার করে তিনি বিএনপি নামের যে দল গঠন করলেন- সেই দল হাঁটাচলা শেখার আগেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল! এই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার রহস্যটা হচ্ছে, জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তাকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছিল। আর সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু অবাক লাগে, জিয়াউর রহমানের এই ভাঁওতাবাজি ও নির্বাচন নিয়ে কারচুপি-অনিয়মের পরও অনেকেই তাকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা’ বলার চেষ্টা করেন। অনেক দল হলেই কি বহুদলীয় গণতন্ত্র হয়ে যায়? জিয়াউর রহমান যেখানে প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাতেন, গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না- সেখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র কীভাবে হয়?

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও খুনি-সন্ত্রাসীদের পুনর্বার ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি-সন্ত্রাসী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী এবং এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীরা আর যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। তারা যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, মুজিবের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে মানুষের অধিকার সমুন্নত থাকবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব- জাতির পিতার জন্মদিনে এটাই আমাদের দৃঢ়প্রত্যয়। ইনশাআল্লাহ আমরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিশাল বিজয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে এ নির্বাচনে গেছে। এই নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত একটি আসনও পায়নি। বিএনপি অল্প কয়েকটিতে জিতেছে। নির্বাচনের আগে তারা জিতলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেটা জনগণের সামনে বলতে পারেনি। এর পর তাদের মনোনয়ন-বাণিজ্য, সন্ত্রাস-দুর্নীতির কারণে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

Share.